ঢাকা, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১

পাহাড়ি জনপদের নওমুসলিম হয় ছাড়তে হচ্ছে ইসলাম ধর্ম, না হয় বাড়িঘর


প্রকাশ: ১৩ জুলাই, ২০২১ ০৪:১২ পূর্বাহ্ন


পাহাড়ি জনপদের নওমুসলিম  হয় ছাড়তে হচ্ছে ইসলাম ধর্ম, না হয় বাড়িঘর

হয় ইসলাম ধর্ম ছাড়ছে, না হয় বাড়ি ছাড়ছে। এই হলো পার্বত্য নওমুসলিমদের বর্তমান অবস্থা। বান্দরবানে নওমুসলিম ইমাম ওমর ফারুক ত্রিপুরাকে হত্যার পর দেশের পার্বত্য এলাকার নওমুসলিমদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দু-একটি পরিবার এখনো যারা টিকে আছে, তারা নিজেদেরকে চরম নিরাপত্তাহীন ভাবছেন। এ দিকে ওমর ফারুক হত্যায় জড়িতদের কেউ এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় পাহাড়ি জনপদে আতঙ্ক আরো বাড়ছে।বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম তুলাছড়ির বাসিন্দা ওমর ফারুক ত্রিপুরাকে গত ১৮ জুন রাতে নিজ ঘর থেকে বের করে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয়। ওমর ফারুক পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের লোক ছিলেন। সনাতন ধর্ম থেকে প্রথমে তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিষ্টান হন। পরে ২০১৪ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তুলাছড়ির নিজ এলাকাতেই মসজিদ গড়ে তুলে সেখানে ইমামতি করে আসছিলেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, মুসলমান হওয়ার পর পূর্ণেন্দু ত্রিপুরার নাম রাখা হয় ওমর ফারুক। ১৮ জুন রাতে এশার নামাজের ইমামতি করে বাসায় ফেরার পর কিছু দুর্বৃত্ত হত্যা করে ওমর ফারুককে। এই ঘটনায় ২০ জুন নিহতের স্ত্রী নওমুসলিম রাবেয়া বেগম বাদি হয়ে থানায় মামলা করেন। এজাহারে অজ্ঞাতনামা পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠনের অজ্ঞাত পাঁচজনকে আসামি করা হয়। ওমর ফারুক ত্রিপুরার মেয়ে আমেনা ত্রিপুরা গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার রাতে দুর্বৃত্তরা তাদের বাড়ির সামনে এসে তার বাবাকে ডাকে। তার বাবা বের হওয়ার পর দুর্বৃত্তরা জানতে চায়, তোমার জমিনে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছো, তুমি মুসলিমদের নেতা? এমন প্রশ্নের জবাবে তার বাবা হ্যাঁ বলার সাথে সাথে সন্ত্রাসীরা উপর্যুপরি গুলি করে তাকে হত্যা করে। সারা রাত তার লাশটি ঘরের সামনেই পড়েছিল। এই ঘটনার সময় রাতে ওই এলাকার কোনো মানুষ ঘরের বাতি পর্যন্ত জ্বালায়নি।


   আরও সংবাদ