ঢাকা, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১

পরীক্ষা বন্ধ, থেমে নেই রানা!


প্রকাশ: ১৩ জুলাই, ২০২১ ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন


পরীক্ষা বন্ধ, থেমে নেই রানা!

করোনাকালে এসএসসি পরীক্ষাসহ অন্যন্য সকল ধরনের পরীক্ষা বন্ধ থাকায় এক রকম অলস সময় পার করছেন দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী। এ অবস্থায় নানা অপকর্ম-কুকর্ম ছাড়াও মাদকাসক্তও হয়ে পড়ছেন অনেকে। তবে একেবারে ভিন্ন মেরুতে আছেন মো.রানা আহম্মেদ (২০) নামে কারিগরি প্রশিক্ষণ বিদ্যালয়ের (টিটিসি) এক পরীক্ষার্থী। তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা সদরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ের বহুতল ভবনে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছেন।মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সকালে ওই ভবনের দু’তলায় গিয়ে দেখা যায় কাঁদা মাখা জিন্সের শর্ট প্যান্ট ও গেঞ্জি গায়ে কখনো মাথায় সারি সারি ইট আবার কখনো বালু সিমেন্ট মিশিয়ে রাজমিস্ত্রিকে এগিয়ে দিচ্ছেন রানা। ওই সময় কাজের ফাঁকে কথা হয় তাঁর সাথে।

 

রানা জানান, তিনি ময়মনসিংহ সদরের সুতিয়াখালি মহল্লার মো. মকবুল হোসেনের ছেলে। তাঁরা তিন ভাই ও ২ বোন। মা-বাবা দুইজনই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। এক ভাই ও এক বোন স্থানীয় মাদরাসায় পড়ছে। অন্যরা বাড়িতেই থাকছে। বাবা মকবুল গত ৪/৫ বছর ধরে কোনো ধরনের কাজ কর্ম করতে পারেন না। এই অবস্থায় পড়ালেখার পাশপাশি নিজেই পরের কাজকর্ম করে কোনোভাবে সংসার চালিয়ে আসছে। নিজের ও ভাইবোনের খরচ তিনিই যোগাড় করেন। করোনাকালে সব কিছুই ওলটপালট হয়ে গেছে। এর মধ্যেই পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর একটাই স্বপ্ন পড়ালেখা করে তিনি প্রকৌশলী হবেন। এই জন্য তিনি অটোমেটিভ ট্রেডে পড়াশোনা করছেন।

২০২০ সালের পরীক্ষার্থী হওয়ায় ইতিমধ্যে প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে। সকল সেমিস্টার পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। এখন অপেক্ষায় আছেন কবে হবে সেই কাঙ্খিত পরীক্ষা। তাহলে স্বপ্ন পূরণে আরো এক ধাপ এগুনো যাবে। কিন্ত মহামারি করোনায় পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।এ অবস্থায় নান্দাইল উপজেলা সদরের বালিকা বিদ্যালয়ে নতুন একাডেমিক বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ করা প্রতিবেশী বড় ভাই রমজান আলীকে ধরে সেখানে কাজ নিয়ে নেন রানা। সেখানে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করছেন গত প্রায় চারমাস ধরে। প্রতিদিন দেওয়া হয় সাড়ে চারশ টাকা। এই টাকার মধ্য থেকে খাওয়া বাবদ ১০০ ও ৫০ টাকা নিজের পকেট খরচের জন্য রেখে বাকি ৩০০ টাকা বাড়িতে পাঠান রানা। এতে দিব্যি তিনি ভালই চলছেন।

 

রানা বলেন, আমার অনেক বন্ধুরা খারাপ পথে চলে গেছে এই অলস সময়ে। আমার দেখা অনেকের অভিভাবক তাঁদের সন্তান নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন। এই অবস্থায় থেকে আমি নিজে কাজ করে আয় করছি। সময়ও ভালো যাচ্ছে। এতে কোনো লজ্জা নেই বরং নিজের এই যুদ্ধের কথা অন্যদের বলতে পারছি।

রানার ওস্তাদ নুর হোসেন বলেন, রানা অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। তার কথাবার্তা আচার-আচরণ অত্যন্ত ভালো। কাজে কোনো ফাঁকি দেয় না। কাজটাকে অন্তরিকভাবে করে। এই জন্য তাকে সবাই অন্য চোখে দেখে।

এ ব্যপারে নান্দাইল পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, আমার বিদ্যালয়ের ভবনের নির্মাণ কাজে সে সহযোগী হিসাবে কাজ করছে। প্রায়ই সে মোবাইলে অনলাইনে ক্লাস করে। তাছাড়া নিজের পড়ার বিষয়ে আমাকে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করে। এতেই বোঝা যায় সে অনেক মেধাবী। করোনার এই বন্ধে সকল শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশপাশি কোনো একটা কর্মে লিপ্ত থাকলে সব দিক দিয়েই ভালো।


   আরও সংবাদ